সিরাজগঞ্জে নেই ঈদ আনন্দ: বন্যা ও যমুনার ভাঙন

0
8

আমার নিউজ ডেক্স: যমুনা নদীভাঙন ও বন্যায় বিপর্যস্ত সিরাজগঞ্জের চৌহালী-এনায়েতপুরের প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক পরিবারে নেই ঈদ ও কোরবানির আনন্দ। যমুনার দু’পাড়ের বহু পরিবার বন্যা ও নদীভাঙনে বসত-ভিটে হারিয়ে নিজেদের একটু মাথা গোজবার ঠাই খুঁজতেই ব্যস্ত। তাদের পরিবারের ছোট সন্তানদের নতুন জামা কিনে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর পশু কিনে কোরবানি দেয়াতো এখন স্বপ্নের মতো। জানা যায়, চৌহালীর উপজেলার দক্ষিণে খাষপুখুরিয়া, চরছলিমাবাদ, বোয়ালকান্দি ও এনায়েতপুর থানা সদরের ব্রাহ্মণগ্রাম, আড়কান্দিচর, বাঐখোলা, জালালপুর একটি সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ছিল গবাদি পশু পালন, কৃষি ও তাঁত শিল্পের ব্যবসা করে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন বংশানুক্রমে।

কিন্তু বিগত ৪ বছর ধরে যমুনা নদীর রাক্ষুসী থাবায় একে একে বিলীন হতে থাকে এ সব এলাকার বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে এ বছরের বন্যা ও গত দেড় মাস ধরে যমুনা নদীতে প্রচণ্ড ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে যমুনার পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে চলে ভাঙনের তাণ্ডবলীলা।

ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় চৌহালী ও এনায়েতপুর থানার প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক বসতভিটা ও ঈদগাহসহ ৫টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। তলিয়ে যায় কয়েক হাজার একর আবাদি জমি। এ কারণে এসব এলাকায় চলে বন্যা ও নদীভাঙনে বিধ্বস্তদের আহাজারি ও সাহায্য প্রার্থনা। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রতি ঈদ উপলক্ষে ১৫ কেজি করে ভিজিএফ চালের বরাদ্দ দিলেও জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্টরা সঠিকভাবে চাল বিতরণ না করায় ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবার ত্রাণ সহায়তা বঞ্চিত রয়েছেন।

ওই সব পরিবারে ঈদের আনন্দ থাকছে না বলে জানিয়েছেন এনায়েতপুর থানা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও জালালপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ।

শনিবার সকালে আড়কান্দি চরের ইসমাইল, বরকত আলী, লতিফ ও ছমিরন বেওয়া জানান, বন্যার সঙ্গে নদীভাঙন যুক্ত হয়ে তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেছে।

প্রতি বছরের মতো ইচ্ছা ছিল গবাদি পশু কোরবানি দেয়া। কিন্তু নদী ভাঙনে সব হাড়িয়ে এখন তারা পথে বসার উপক্রম। ব্রাহ্মণগ্রামের তাঁত শ্রমিক রহমত আলী, সারা দেশে ঈদের আমেজ লাগলেও তার পরিবারে এখনও ঈদের কোনো আমেজ নেই। ছোট সন্তানদের কিনে দিতে পারেননি নতুন পোশাক।

এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ জানান, যমুনার ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জিআর ও ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে বন্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নদী ভাঙনের কারণে সহায়-সম্বল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবার কোরবানি দিতে পারছে না। তাদের পরিবারের সন্তানদের নতুন জামাকাপড় কিনে দেয়াই তাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here