সাহিত্য চর্চা> বর্তমান প্রযুক্তি

0
7

জনি হাসান

 আমরা ক্রমান্বয়ে যান্ত্রিক হয়ে পড়ছি। প্রযুক্তি নির্ভর করে আমাদের মনের চাহিদা এবং সামগ্রিক বিনোদন মেটানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছি। যার ফলে সাহিত্যচর্চা কিংবা বইও পড়ছি অনলাইনে। যেটা বর্তমান বিজ্ঞানের অনেক বড় সাফল্য। আবার সাহিত্য চর্চা বা বই পড়া থেকে দূরে সরে অন্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে মানুষ মনের রস মেটানোর চেষ্টা করছে। অনেকে সাহিত্যচর্চা প্রায় বাদ দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এটা আদৌ ঠিক নয়। একবার ভাবুন তো কাগজের বইয়ের গন্ধ কতটা দারুন! কতটা মজা বইয়ের পাতায় চোখ রেখে ঘুমিয়ে পড়া? কিংবা সাহিত্য চর্চা করা? সাহিত্যের রস দিয়ে মনটা ভেজালে যেমন সজীব থাকে তা অন্য কিছু দিয়ে কি সম্ভব? 
একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বর্তমানে আমাদের দেশে বই পড়া তথা সাহিত্যচর্চার প্রবণতা কমে চলেছে। এর জন্য বর্তমান প্রযুক্তি এবং আমরা সমানভাবে দায়ী। কারণ প্রযুক্তির চরম ব্যবহার আমরা করতে পারি না যার কারনে সব সময়ই নতুন কিছুর দিকে আগ্রহ থাকে আমাদের। আমাদের অর্থনীতি, সমাজ, পরিবার, সর্ব মূলে রাষ্ট্র এসব ব্যবহারের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পর্যায়ক্রমে যখন প্রতিবন্ধকতা দূর হয় তখন এসব ব্যবহার করতে পারি, যার ফলে এসবের প্রতি আগ্রহটা শেষ হয় না। কেউ কেউ আবার বুক ফুলিয়ে বলে মান্ধাতার আমলের কাগজের বই বাদ দিয়ে, সাহিত্য চর্চা বাদ দিয়ে, নতুন প্রযুক্তির কাছ থেকে বিনোদন নাও, শিক্ষা নাও। কিন্তু ওদের ভাবা উচিত সাহিত্যচর্চা ব্যতীত মনের কোন উন্নতি কোন সময়ে ঘটেনি এবং ঘটবেও না। আর জ্ঞান অর্জনে বই কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমার বিশ্বাস প্রযুক্তির সম্পূর্ণ ব্যবহার করবার পর মানুষ আবার বইয়ের সামনে নত হবে। মনের চাহিদা মেটাতে দ্বারস্থ হবে বইয়ের কাছে। প্রযুক্তি জীবন ধারণ পদ্ধতি কে উন্নত করতে পারে কিন্তু মানসিক চাহিদা মেটাতে পারেনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here