শিলার তোপে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের সবুজ ক্ষেত।

0
60
শিলার তোপে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের সবুজ ক্ষেত।
শিলার তোপে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের সবুজ ক্ষেত।

রংপুরে হঠাৎ ঘুর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে রংপুর মহানগরের বেশ কিছু এলাকাসহ গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ, কাউনিয়া উপজেলা ও এর আশপাশের এলাকায় ফসল ও ঘর-বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানির চেয়ে শিলার তোপে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের সবুজ ক্ষেত।

শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আকস্মিক এ ঘুর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। মিনিট কয়েকের ঝোড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ ও আবহাওয়া অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি।

শিলার তোপে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের সবুজ ক্ষেত।
শিলার তোপে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের সবুজ ক্ষেত।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ কালোমেঘে আচ্ছন্ন হয় আকাশ। এর কিছুক্ষণ পর শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া। পৌঁনে পাঁচটার দিকে রংপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতে পানির পরিমাণ কম হলেও প্রচুর শিলাপাথর ঝরেছে। শিলাবৃষ্টিতে কোথাও কোথাও শিলার স্তুপ জমে যায়। তবে বৃষ্টির চেয়ে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব পড়েছে জনজীবনে।

একাধিক পথচারী জানিয়েছেন, হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়াসহ শিলা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন অনেক পথচারী। কামাল কাছনা বাজারের ব্যবসায়ী আজহার আলী জানান, উত্তরের আকাশ একটু মেঘলা ছিল, দোকানে বসে আছি, হঠাৎ ঝড়ো বাতাস শুরু হলো। রাস্তার ধুলা দোকানে, সব অন্ধকার হয়ে গেলো।

নগরীর শালবন, ধাপ, সিও বাজার, মিস্ত্রিপাড়া, তাজহাটসহ রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া গঞ্জিপুর, তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝড়ো হাওয়ার সাথে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। কয়েক মিনিট ধরে চলা বৃষ্টিপাতে ফসলি খেত ছাড়াও ঘর-বাড়ি ও গাছগাছালির ক্ষতি হয়েছে। হঠাৎ এমন ঝড়ো হাওয়া ও শিলা বৃষ্টিতে ধান ও আলুসহ শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হওয়াতে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকের।

নগরীর ধাপ এলাকার ডিএস দিদার বলেন, এরকম শিলাবৃষ্টি কখনো দেখেনি। কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতে পুরো বাড়ির উঠান শিলাপাথরে ভর্তি হয়ে গেছে। বাড়ির লোকেরা সবাই মিলে শিলা পাথর বালতিতে সরিয়েছি। শিলা পাথরগুলো দেখতেও বড় আকৃতির ছিল। ঘুর্ণিঝড়ে তার বাড়ির পিছনের বড় দুটি আম গাছ ভেঙে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া গঞ্জিপুর এলাকার মহিউদ্দিন জানান, তারা কয়েকজনসহ বিকেলে ভিন্নজগতে ঘুরতে গিয়েছিল। হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। এক পর্যায়ে মুশুল ধারে শিলাবৃষ্টি হতে থাকে। এরকম শিলাবৃষ্টি গত এক দশকে হতে দেখেননি বলে জানান তিনি।

তারাগঞ্জের কুর্শাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, ধানের গাছ এখন বেশ বাড়ন্ত। ধানও গজাতে শুরু করেছে। কিছুদিন পরই দৃশ্যমান হতো ধান। কিন্তু শুক্রবার বিকেলের এই শিলাবৃষ্টিতে মাটির সঙ্গে ধান মিশে গেছে।

গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়ার বেশ কয়েকজন জানান, শিলা বৃষ্টিতে আমগাছে আসা গুঁটি ঝরে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় আধপাকা কিংবা পাকা গম আর ভুট্টা মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এগুলো থেকে ফলন পাওয়া এবং গম থেমে বীজ পাওয়ার কোনো ভরসা দেখছেন না স্থানীয় কৃষকেরা।

গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি বাজার এলাকার কৃষক মতলুব মিয়া জানান, মাঠে তার সেচ মেশিনের ঘরটিও ঝড়ে উড়ে গেছে। এ ছাড়া গ্রামের ৫-৭ বছরের পুরানো টিনের ঘরের টিনগুলো ভিন ভিন করে দিয়েছে শিলাবৃষ্টি। ধানের পাশাপাশি শাকসবজি ও ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম কামরুল হাসান জানান, শুক্রবার বিকেলে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৫৬ কিলোমিটার বেগে ঘুর্ণিঝড় বয়ে গেছে। শহরতলীতে এর স্থায়িত্ব এক মিনিটের কম সময় ছিল। তবে জেলার তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া উপজেলাসহ প্রত্যন্ত এলাকাতে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত জেলায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, শিলা বৃষ্টি হয়েছে কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে সহযোগিতা করা হবে।

বাংলার মুখ ডেক্স:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here