মা….ই তো!

0
5

আমার নিউজ ডেক্স: মা-ই তো! কোন মা কি পারে কোন সন্তানের সাথে এমন করতে। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সেতু (১৩) সৎ মা সাবিনার হাতে নিত্য দিন ছলছুতায় নির্যাতনের শিকার হতো। তাকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিত সৎ মা। আর এ সময় সৎ ভাই শিশুটির হাত ধরে রাখতো।

বাবা রিয়াজ শিকদার এসবের খেয়াল রাখতেন না। তিনি ঘুম থেকে উঠে সকালে নিটস্থ পান্থাপাড়া বাজারে ভাঙ্গারির দোকানে চলে যেতেন। ফিরতো রাতে। ২৪ মার্চ সামান্য কারনে ছোট এ শিশুটির কোমল শরীরের ঘাড়, কনুই, হাতসহ ১৩টি স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে দগ্ধ করেছে সৎ মা সাবিনা। ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এবং মাথার উপরে ছাদ হারাবার ভয়ে কাউকেই জানায়নি। এমনকি বাবাকেও না। দগদগে ঘা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। কিন্তু বিধিবাম! চোখ এড়ায়নি এলাকাবাসীর। শিশুটির সারা শরীরের খুন্তির ছ্যাঁকা দেখে আঁতকে উঠেছেন সবাই। প্রতিবাদ জানিয়েছে এলাকার নারী পুরুষ, শিশু ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। এ ঘটনা এলাকায় চাউর হলে মানবাধিকার কর্মী মমতা খাতুন রোববার সকালে মেয়েটিকে উদ্ধার করে নিকটস্থ কালামৃধা বাজারে নিয়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এ মর্মস্পর্শী ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার উত্তর সীমান্তে কবিরাজপুর ইউনিয়নের পান্থাপাড়া গ্রামে। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রোববার দুপুরে শিশুটির সৎ মা সাবিনা বেগম ও ভাই ছাব্বিরকে (১৭) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে।

রাজৈরের পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সেতু জানায়, প্রায় ৯ বছর পুর্বে তার মা রেহানা বেগম মারা যান। মা জীবিত থাকতেই বাবা পুনরায় সাবিনা বেগমকে বিয়ে করেন। এর পরেই তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ।

মেয়েটি জানায়, এ ঘরে এক ভাই ও এক বোন রয়েছে। সৎ ভাই ছাব্বির (১৭) ও নানীর প্ররোচণায় সৎ মা সাবিনা গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানের ছ্যাঁকা দেন। আমি যন্ত্রনায় চিৎকার করলেও তাদের মায়া হয়নি। এ সময় সৎভাই তার হাত চেপে ধরে। তাকে চিকিৎসা পর্যন্ত দেয়নি। কারো কাছে অভিযোগ করলে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলে কে আমাকে আশ্রয় দিবে? এ ভয়ে কাউকেই জানাইনি সে।

রাজৈর থানার এসআই খান মো. জোবায়ের জানান, খবর পেয়ে রোববার ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করি এবং সৎ ভাই ছাব্বির ও সৎ মা সাবিনাকে আটক করে থানা নিয়ে আসি। এ সময় রাজৈর মহিলা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি মোমেনা বেগম, মানবাধিকার কর্মী মমতা খাতুন ও সাংবাদিক গন উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহানা নাসরিন জানান, মেয়েটিকে উদ্ধার কবরে চিকিৎসার জন্য রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির পুনর্বাসনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here