বাঁশের তৈরি স্কুল পেল আন্তর্জাতিক পুরস্কার

0
5

আমার নিউজ ডেক্স: ঢাকার কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ কানারচর এলাকায় বাঁশের তৈরি একটি স্কুল আন্তর্জাতিক আগা খান পুরস্কার পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার কাজানে আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার ২০১৯-এ ভূষিত হয় প্রকল্পটি। প্রকল্পটির স্থপতি সাইফ-উল হক।

বাহরাইন, ফিলিস্তিন, রুশ ফেডারেশন, সেনেগাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫টি স্থাপনার সঙ্গে ১০ লাখ ডলার মূল্যের পুরস্কারটি জিতেছে বাংলাদেশের এই স্থাপনা।

জানা গেছে, মালেকা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত আর্কেডিয়া অ্যাডুকেশন প্রজেক্টের আওতায় নির্মিত স্কুলটি বাঁশ, দড়ি ও ড্রাম দিয়ে তৈরি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী উভচর প্রকৃতির। স্কুলটি এমন এলাকায়, যে এলাকা বছরের কয়েক মাস থাকে পানির নিচে। যখন পানি আসে, তখন স্কুলটি ভেসে থাকে। যখন পানি চলে যায়, তখন তা মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, আলিপুর ব্রিজের পশ্চিমপাশে ধলেশ্বরী নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে নির্মিত হয়েছে স্কুলটি। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি স্কুল। কিছুটা এগিয়ে গেলে দেখা মিলল স্কুলের সার্বক্ষণিক কাঠমিস্ত্রীর দায়িত্বে থাকা প্রাণবল্লভের সঙ্গে।

স্কুলের চারদিকে বর্ষার পানি থাকায় তিনি কোষা নৌকা নিয়ে যান স্কুলের মূল অবকাঠামোতে। ঘুরিয়ে দেখান স্কুলের কক্ষগুলো। প্রায় দেড়শ’ ফিট লম্বা ও ৩৫ ফিট প্রশস্ত অবকাঠামোতে রয়েছে শিশুদের লেখাপড়ার সব সুবিধা।

পাঠদানের তিনটি কক্ষ ছাড়াও রয়েছে শিশুদের খেলার জায়গা ও টয়লেট। শ্রেণিকক্ষের নামগুলোও বেশ চমকপ্রদ সিন্দু, বিন্দু ও কণা। এ ছাড়াও রয়েছে সুপেয় পানির ব্যবস্থা।

মজার বিষয় হচ্ছে, সম্পূর্ণ অবকাঠামোটি তৈরি হয়েছে বাঁশ, দড়ি ও ড্রাম দিয়ে। শুষ্ক মৌসুমে স্কুলটি মাটিতে আর বর্ষাকালে পানিতে ভেসে থাকে। স্কুলের টয়লেটের বর্জ্য ফেলার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত হয়েছে সেপটিক ট্যাংক। এই ট্যাংকও মূল অবকাঠামোর মতো উভচর।

স্কুলের প্রশাসক মো. সালাম মিয়া জানান, ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের বাসিন্দা রাজিয়া আলম নামে এক নারী স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন।

তিনি জানান, ২০০৯ সালে সাভারের নগরকুণ্ডা এলাকায় ভাড়া বাসায় এই স্কুলের যাত্রা শুরু হয়। সেখান থেকে ২০১২ সালে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর কদমতলী এলাকার ভাড়া বাসায় স্কুলটি স্থানান্তরিত হয়।

এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে হযরতপুরের কানারচরে জমি ক্রয় করে স্কুল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয় স্থপতি সাইফ-উল হককে।

২০১৬ সালে স্কুল নির্মাণের কাজ শেষ হয়। এখানে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের শুধু পড়ানো হয় না, বই ও শিক্ষা উপকরণও দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে সকালের নাশতা পরিবেশন করা হয়।

মো. সালাম আরও জানান, এবার বর্ষায় পানি বেশি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আসতে পারছে না। তাই সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে পাঠদান কার্যক্রম।

জানা গেছে, স্থাপত্য পুরস্কারের ক্ষেত্রে আগা খান অ্যাওয়ার্ড অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। এই পুরস্কার দেয়া শুরু হয় ১৯৭৭ সাল থেকে। প্রতি তিন বছর পর এই সম্মাননা দেয়া হয়। সমকালীন নকশা, সামাজিক গৃহায়ন, সামাজিক অগ্রগতি ও উন্নয়নসহ অনেক দিকই এতে বিবেচনা করা হয়।

এর আগে ২০১৬ সালে স্থাপত্যবিদ্যার এই পুরস্কার জিতেছিলেন দুই বাংলাদেশ স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম ও কাশেফ মাহবুব চৌধুরী।

তারা দু’জন এ পুরস্কার জয় করার আগে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশিদের দ্বারা নির্মিত তিনটি স্থাপনা পেয়েছিল এ পুরস্কার। এগুলো হল জাতীয় সংসদ ভবন, গ্রামীণ ব্যাংক হাউজিং প্রকল্প ও রুদ্রপুর স্কুল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here