প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী কৌশলে আওয়ামী লীগ

0
8

আমার নিউজ২৪ডেক্সঃ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে কৌশলী ভূমিকায় আওয়ামী লীগ। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। অর্থাৎ পদ দুটি উন্মুক্ত থাকছে।

এদিকে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ তিনজনের নাম চেয়ে তৃণমূলকে চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপি শেষপর্যন্ত নির্বাচনে না আসার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে চেয়ারম্যান পদেও ছাড় দিতে পারে দলটি। এছাড়া ১৪ দলীয় জোটের শরিকরাও নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নিচ্ছে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী বাছাই করলেও ‘কৌলশগত কারণে’ তালিকা প্রকাশ করেনি আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে যে ওয়ার্ডগুলোতে বিএনপির প্রার্থী নেই, সেগুলো উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী থাকলে সেখানে দল মনোনীত প্রার্থী সমর্থন দেবে আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ঢাকা সিটি ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে চায় আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচনে বিএনপি যাবে না- এমন ঘোষণা আসার পরই কৌশলী ভূমিকায় ক্ষমতাসীনরা।

এক্ষেত্রে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতার বিষয়ে ‘উদার নীতি’তে যাচ্ছে দলটি। তবে বিএনপির জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে দলটি। বিএনপি নির্বাচনে এলে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী, আর না এলে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের মতো ভিন্ন কায়দায় উন্মুক্ত করে দেয়া হতে পারে চেয়ারম্যান পদটিও।

সেক্ষেত্রে দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর পাশাপাশি দলের অন্যদেরও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে। আওয়ামী লীগ একজনকে মনোনয়ন দেবে আর দলের অন্য কেউ প্রার্থী হতে চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন। সেক্ষেত্রে দল বাধা দেবে না। সিটিতে মেয়র পদে দলীয় একক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলেও কাউন্সিলর পদে ‘উদার নীতি’তে দলটি।

বুধবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘দলীয় সভাপতি ও দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের মনোনয়ন বোর্ড। তবে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেবে না মনোনয়ন বোর্ড।’

এছাড়াও বিবৃতিতে- আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৮(৪) ধারা মোতাবেক জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাদের পরামর্শ গ্রহণপূর্বক জেলা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের (চারজন) স্বাক্ষরে চেয়ারম্যান পদে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এক বা অনধিক তিনজনের প্রার্থী তালিকা ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দলের সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়ছে। প্রার্থীদের নামের তালিকার সঙ্গে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি বাধ্যতামূলকভাবে পাঠাতে হবে।

এদিকে চিঠি পাওয়ার পর তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। প্রার্থীর ছড়াছড়ি হওয়ায় কেন্দ্রের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বেশ হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় নেতারা। সমঝোতা না হলে ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরসহ বেশ কিছু উপজেলায় দলীয় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নেয়ার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে চেয়ারম্যান পদের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও দলীয় প্রার্থীর জন্য ভোট নেয়া হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা আলাদা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (আম্বিয়া), বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল এবং গণতন্ত্রী পার্টিসহ দু’একটি দল উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলীয় বৈঠকও ডেকেছে।

জোট শরিকরা বলেছে- বিগত সময় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন জোটগতভাবে হয়নি। তাই এবারও তারা আলাদাভাবে করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া যুগান্তরকে বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন তো গতবারও জোটগতভাবে হয়নি, আলাদা হয়েছে। এবারও আমরা আলাদাভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। করণীয় চূড়ান্ত করতে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আমাদের দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৬টি ওয়ার্ডে দলসমর্থিত প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও কৌশলগত কারণে তা করেনি। দলের সমর্থনপ্রত্যাশী কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র ক্রয় করতে বলা হয়েছে। কোথায় কাকে দলীয় সমর্থন দেয়া হবে তা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে জানিয়ে দেয়া হবে।

৩৬ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী বাছাই কমিটির একাধিক সদস্য যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নবগঠিত ১৮টি করে ৩৬টি ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচন হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ৩০ জানুয়ারি, বাছাই ২ ফেব্রুয়ারি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ফেব্রুয়ারি। গত ২২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এ তফসিল ঘোষণা করে।

বাছাই কমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বুধবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা ঢাকার ২ সিটির ৩৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ করেছি। তালিকা প্রকাশ করার কথা থাকলেও আমরা আপাতত সেটি করছি না। সবাইকে মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিতে বলেছি। তবে যেসব স্থানে বিএনপি প্রার্থী দেবে সেসব ওয়ার্ডে আমরা একজনকে দলীয় সমর্থন দেব। বাকিরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন। বিএনপি অংশ না নিলে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

দলীয় প্রার্থী বাছাই নিয়ে মহানগরের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ১৮টি ওয়ার্ডের মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় প্রার্থিতা নিয়ে একজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে এ অনিয়মের অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার প্রার্থী বাছাইয়ের সাক্ষাতের সময় ওবায়দুল কাদের সেই শীর্ষ নেতাকে কঠোরভাবে শাসিয়ে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত যুগান্তরকে বলেন, মহানগর থেকে যে প্রার্থী তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে সেটির বিষয়ে আমি জানি না। তবে এ নিয়ে আমার কোনো ক্ষোভ নেই।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে তিনশ’ প্রার্থী দলীয় সমর্থনের আশায় আওয়ামী লীগের কাছে আবেদন করেছেন। এর মধ্য থেকে অধিকতর যোগ্য, জনপ্রিয় ও দলের জন্য নিবেদিত ৩৬টি ওয়ার্ডের জন্য ৩৬ জন ও ১২টি সংরক্ষিত মহিলা পদের জন্য ১২ জন প্রার্র্থী চূড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় বাছাই কমিটি।

তবে বিএনপি নির্বাচনে আসার বিষয়ে এখনও আগ্রহ না দেখানোর কারণে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করছে না আওয়ামী লীগ। শেষ পর্যন্ত উন্মুক্তই রাখা হতে পারে সবার জন্য। সোমবার এ সাক্ষাৎকার শুরু হয়ে শেষ হয় মঙ্গলবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here