পুষ্টিবিদ তাসনিম আশিকের সতর্কতা-পরামর্শ ;ডেঙ্গু নিয়ে

0
6


আমার নিউজ ডেক্স: ডেঙ্গু রোগ বর্তমান সময়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তবে রোগ যেহেতু সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি রোগের সমাধানও অবশ্যই রয়েছে। এ জন্য দরকার আমাদের সচেতনতা। ডেঙ্গু রোগীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার খাদ্য ব্যবস্থাপনা। খাদ্য ব্যবস্থাপনায় এ রোগের ৮০ ভাগ চিকিৎসা। একজন ডাক্তার এবং একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানই দিতে পারে একজন রোগীকে দ্রুত সুস্থতা।
যে ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত:

▪ প্রথমত নিজ বাসস্থানের চারপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাটা জরুরি। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে অবশ্যই বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ জমানো পানিতে এডিস মশার উৎপত্তি হতে পারে।
▪ দিনের বেলা বিশ্রাম নেয়ার সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।
▪ মশা প্রতিরোধক যে সব বিভিন্ন ধরনের স্প্রে বা মেডিসিন পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করাটা জরুরি।
▪ এই সময় কোনো জ্বরকে অবহেলা করা যাবে না বা শরীর জ্বর জ্বর লাগলেই প্যারাসিটামল গ্রহণ করা যাবে না।
▪ অবশ্যই নিকটস্থ কোনো হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গুজ্বর শনাক্তকরণের জন্য যে শারীরিক পরীক্ষাগুলো আছে যেমন: CVC, NS1 Antigen করাতে হবে।
▪ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডেঙ্গু শনাক্ত হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সঠিক নিয়মে যদি খাদ্য ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয় তবে খুব সহজেই শারীরিকভাবে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। এ জন্য সঠিক ও পরিমাণ মতো খাদ্য গ্রহণ করাটা খুব জরুরি।
ডেঙ্গু রোগীর খাবার যেমন হবে:
ডেঙ্গুজ্বরে যেহেতু শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায় সে জন্য অবশ্যই শরীর ডিহাইড্রেট বা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এর জন্য প্রচুর পরিমাণ তরল ও পানীয়জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। কিছুক্ষণ পর পরই পানীয় ও তরল খাবার গ্রহণ করলে শরীরে ফ্লুইড ব্যালান্স ঠিক থাকবে।
সারা দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, মৌসুমী ফলের রস, অধিক পানিজাতীয় ফল, বিভিন্ন সবজির মিশ্রণে তৈরি সবজির পাতলা স্যুপ, সবজি দিয়ে রান্না করা পাতলা ঝোলের তরকারি ও পাতলা সুজি। এ ছাড়া এই সময় যেহেতু শরীরে এনার্জি পাওয়া যায় না এ জন্য দরকার প্রোটিন খাবার। সে ক্ষেত্রে চিকেন স্যুপ, চিকেন স্টক, পাতলা মুরগির ঝোল, পাতলা খিচুরী ও নরম মাছ হলো রোগীর জন্য আদর্শ খাবার। সারা দিনে এই খাবারগুলো রোগীকে কিছুক্ষণ পর পর এবং সময় মতো যদি গ্রহণ করানো যায় তবে তার শরীর হাইড্রেট থাকবে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং খুব দ্রুত রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে।
সুতরাং ডেঙ্গুজ্বর শনাক্ত হলে ভয় না পেয়ে খুব দ্রুত চিকিৎসাব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
লেখক: তাসনিম আশিক
পুষ্টিবিদ
নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here