পিরোজপুরে ভাসমান কৃষি হাট

0
9

প্রভাতের সূর্য উদয়ের মধ্য দিয়েই ঢেউয়ের ওপরে বসে ভাসমান কৃষি পণ্যের হাট। নৌকায় নৌকায় চলে শাক সবজির, ধান, চাল, মাছ, ফল, আখ, নারকেলসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা। দুপুর হওয়ার আগে ভেয়ে যায় হাট।

অর্ধশতবছরের ভাসমান সবজির হাট বসছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা বাজার সংলগ্ন বেলুয়া নদীতে। সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার এই হাট বসে। ৬৫ বছর ধরে স্থানীয় ২০ থেকে ২৫ গ্রামের কৃষকরা এই হাটে বেচাবিক্রি করে চলেছেন।

দৃষ্টিনন্দন এই হাট দেখতে চাইলে যেতে হবে নাজিরপুর উপজেলা সদর থেকে ১৮ কিলেমিটার দূরে বেলুয়া নদী। বৈঠাকাটা বাজার ও বেলুয়া মুগারঝোর গ্রামের পাশ দিয়ে এই নদীর দেখা মিলবে।

বেলুয়ানদীর এই হাটে মিলবে শালগম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, আলু, মিষ্টি কুমড়া, শিম, লাউ, করল্লা, কচুসহ ও নানা জাতের শাক সবজি। সবজির ছাড়াও আরো পাওয়া যাবে ফুলের চারাধান, চাল, মুড়ি ও নারকেলের হাট। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের মাছ ও মাছ ধরার সরঞ্জাম।

১৯৫৪ সালে বৈঠাকাটা বাজারের পাশে বেলুয়া নদীতে ভাসমান হাট বসা শুরু করে। দিনে দিনে হাটের ব্যাপ্তি বেড়ে চলছে। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া, মুগারঝোর, মনোহরপুর, গাঁওখালী, চাঁদকাঠি, ডুমুরিয়া, সাচিয়া, লড়া, বইবুনিয়া, পেনাখালী, নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া, গগণ, মলুহার, কাটাখালী, উলুহার, জনতা, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি, উমারেরপাড়, উদয়কাঠী, কদমবাড়ি, বাইশাড়ি, চৌমোহনাসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এ হাটে বিক্রি করেন।

এই হাট থেকে পণ্য কিনে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। এ হাটের কৃষিপণ্য ইউরোপের বাজারেও রপ্তানি হয়।ভাসমানবাজার ও এই অঞ্চলের মানুষের বৈচিত্রময় জীবনধারাকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠতে পারেনপর্যটন কেন্দ্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here