পরিত্যক্ত সামগ্রী দিয়েই শিল্পী সমীরণ

0
73
পরিত্যক্ত সামগ্রী দিয়েই শিল্পী সমীরণ
পরিত্যক্ত সামগ্রী দিয়েই শিল্পী সমীরণ

শাহরাস্তি উপজেলার ঘুঘুশাল গ্রামের বাসিন্দা সমীরণ দত্ত। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে নিজ এলাকায় ৫৭ শতক জমি ভাড়া নিয়ে শুরু করেন তার শিল্পকর্ম। প্রায় ২৪ বছর ধরে তিনি এই শিল্পকর্মের সঙ্গে জড়িত। তার শিল্পকর্মগুলোর সবই কুড়িয়ে আনা কাঠ আর শেকড় দিয়ে তৈরি। এসব দিয়ে তিনি টেবিল, চেয়ার, সোফা, ডাইনিং টেবিল, বাচ্ছাদের নানা রকম খেলনা, কাঠের তৈরি হাতি, ঘোড়া, মাছ, পাখি ও অন্যান্য জীবের অবয়ব তৈরি করেছেন।

কুড়িয়ে আনা কাঠের টুকরো, গাছের শেকড় কিংবা পরিত্যক্ত সামগ্রী দিয়েই শিল্পী সমীরণ দত্ত সাজিয়েছেন এক স্বপ্নের ‘মন বাগান’। চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় ঘুঘুশাল গ্রামে গেলেই চোখে পড়বে পরিত্যক্ত কাঠ ও শেকড় দিয়ে তৈরি দৃষ্টিনন্দন সব শিল্পকর্ম। পরিত্যক্ত গাছের শেকড়, গুঁড়ি বা কাঠ সাধারণের চোখে যা অকেজো সেগুলোই সমীরণের হাতের ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে এক একটি শিল্পকর্ম।

পরিত্যক্ত সামগ্রী দিয়েই শিল্পী সমীরণ
পরিত্যক্ত সামগ্রী দিয়েই শিল্পী সমীরণ

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিশু থেকে কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সমীরণের মন বাগানে আনাগোনা দেখা যায়। শখের বসে কেউ কেউ নিজের পছন্দের আসবাবপত্র কিনে নিয়ে যান।

মন বাগানে ঘুরতে আসা অভিজিত ও সায়মা বলেন, গাছের শেকর দিয়ে যে এত সুন্দর ভাস্কর্য তৈরি করা যায়, তা এখানে না আসলে বুঝতে পারতাম না। সমীরণ তার শিল্পকর্ম দিয়ে সাজিয়েছেন মন বাগান। এখানে যে কেউ আসলে মুগ্ধ হবেন। তার এই শিল্পকর্ম আন্তজার্তিক মানের। আশা করি একদিন দেশের বাইরেও তার শিল্পকর্ম পরিচিতি পাবে।

এ বিষয়ে শিল্পী সমীরণ দত্ত বলেন, মূলত ফেলে দেওয়া কাঠ ও শেকড়-বাকড় দিয়ে ‘মন বাগান’ সাজানো। শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষে তৈরি করা হয় শিল্পকর্ম। গত ২৪ বছরে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি ভাস্কর্য এবং ব্যবহারের শিল্পকর্ম তৈরি করেছি। এখন শিল্পকর্ম করছি, সামনে আরও করব। মন বাগানে বাচ্চাদের জন্য আলাদা খেলার জায়গা রয়েছে। বর্তমানে মন বাগানে প্রবেশ করতে কোনো টাকা লাগে না। তবে শিগগিরই জনসাধারণের জন্য প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হবে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, আমি নিজেও সমীরণ দত্তের মন বাগানে ঘুরে এসেছি। কাঠ ও শেকড়-বাকড় দিয়ে ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা ফুটিয়ে তুলছেন তিনি। যারা শিল্প-সাহিত্য নিয়ে কাজ করেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তারাও যেন তাদের জন্য এগিয়ে আসেন। জেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন মেলায় সমীরণ দত্তের এই শিল্পকর্ম তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

বাংলার মুখ:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here