পড়াশোনার জন্য শিশুদের অতিরিক্ত চাপ দেবেন না: প্রধানমন্ত্রী

0
6

আমার নিউজ ডেক্স: শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের যথাযথ বিকাশে শিশু অবস্থায় তাদের পড়াশোনার জন্য চাপ না দিতে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আমি এটুকুই বলব, কোনোমতে যেন কোমলমতি শিশুদের অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া হয়। তাহলে দেখবেন তারা ভেতরে একটা আলাদা শক্তি পাবে। আর তাদের শিক্ষার ভিত শক্তভাবে তৈরি হবে।

কোমল বয়সে লেখাপড়ার কঠোর শৃঙ্খলে আবদ্ধ করাকে ‘মানসিক অত্যাচার’ অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিশুরা প্রথমে স্কুলে যাবে এবং হাসি-খেলার মধ্য দিয়েই লেখাপড়া করবে। তারা তো আগে থেকেই পড়ে আসবে না, পড়ালেখা শিখতেই তো সে স্কুলে যাবে’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব বলেন।

প্রধানমন্ত্রী লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সম্পৃক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশে সাত বছরের আগে শিশুদের স্কুলে পাঠায় না। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক ছোটবেলা থেকে বাচ্চারা স্কুলে যায়। কিন্তু তারা যেন হাসতে-খেলতে, মজা করতে করতে পড়াশোনা নিজের মতো করতে পারে সে ব্যবস্থা করা উচিত।

তিনি বলেন, অনবরত ‘পড়’,‘পড়’,‘পড়’ বলা বা ধমক দেওয়া বা আরো বেশি চাপ দিলে শিক্ষার ওপর তাদের আগ্রহ কমে যাবে, একটা ভীতির সৃষ্টি হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিক্ষার প্রতি সেই ভীতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমি আমাদের শিক্ষক এবং অভিভাবকদের অনুরোধ করব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় আমরা দেখি প্রতিযোগিতা শিশুদের মধ্যে না হলেও বাবা-মায়ের মধ্যে একটু বেশি হয়ে যায়। একেও আমি একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা বলে মনে করি।’

তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীর সমান মেধা থাকবে না। তবে যার যেটি সহজাতভাবে আসবে, তাকে সেটি গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ বিতরণ করেন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা যেন আরো উন্নত এবং মানসম্মত হয় তার প্রতি দৃষ্টি রাখছে তার সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব শিশুর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৮-২০২৩ মেয়াদের জন্য ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকার চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

শিক্ষার ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ে সরকারের কার্পণ্য নেই উল্লেখ করে তিনি তার সরকারের শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের কল্যাণমূলক কার্যক্রমও আলোচনায় তুলে আনেন।

প্রধানমন্ত্রী লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার সরকার এ জন্য প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছে।

এ সময় প্রতিটি স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় তার সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবেই শিক্ষাকে আমরা সার্বজনীন ও বহুমুখী করে দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে যাতে তারা ভালোভাবে শিক্ষা দিতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ইংরেজি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করে এ জন্য কোমলমতিদের বেশি চাপ প্রয়োগ না করারও পরামর্শ দেন।

প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ছাপানো প্রশ্নপত্র প্রদানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাবে শিখতে, তারা তো আগে থেকে পড়ে আসবে না।’

স্কুলে ভর্তি হওয়াকে শিশুদের অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিশুরা যেন বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে সে ব্যবস্থাটা নিতে হবে।’

তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আরবান জানান।

প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যে বই বিতরণে তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এ সময় শিক্ষাকে আরো আকর্ষণীয় করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করেন।

তিনি এ সময় ঝরেপড়া রোধকল্পে তার সরকারের বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদান, ১ কোটি ৪০ লাখ মায়ের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা পৌঁছে দেওয়াসহ সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি এবং স্থানীয় উদ্যোগে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি স্কুল দরকার হলে টিফিন তৈরি করে দেবে, না হলে বাচ্চার মায়েরা তাদের সন্তানের জন্য টিফিন তৈরি করে দেবে। এটা প্রত্যেক মা এবং অভিভাবককেই উদ্যোগ নিতে হবে। ’

তিনি এ সময় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (অটিজম আক্রান্ত বা প্রতিবন্ধী) শিশুদের শিক্ষার বেলায়ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, সহপাঠী এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারের পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা শিক্ষাজীবনের শুরুতেই একটি সনদপত্র পাওয়ায় তাদের যেমন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে তেমনি পরীক্ষা ভীতিও দূর হচ্ছে।

তিনি শিক্ষকদের মানুষ গড়ার কারিগর আখ্যায়িত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ হিসেবে যেন আজকের কোমলমতিরা গড়ে উঠতে পারে সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্যও তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

খবর বাসস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here