ঝিনাইদহের জেএফসিতে খেতে গিয়ে স্ত্রী সন্তানসহ সাংবাদিক বিড়ম্বনার শিকার !

0
6

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

দেশের বিবিন্ন স্থানের মত এবার ঝিনাইদহেও স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে একটি রেষ্টুরেন্টের কর্মচারীদের দ্বারা বিড়ম্বনার শিকার হলেন এক সংবাদকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধার পর ঝিনাইদহের জামে মসজিদেও সামনে অবস্থিত জেএফসি রেষ্টুরেন্টে।

ঝিনাইদহ সংবাদ এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও চ্যানেল নাইন ( চ্যানেলটির বর্তমানে সংবাদ বিভাগ বন্ধ আছে ) এর সাংবাদিক, পরিচয় না দিয়ে সন্ধার কিছু পরে স্ত্রী ও তার মেয়েকে নিয়ে জেএফসি রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন তিনি।

এ নিয়ে ভুক্তভোগী ওই সংবাদকর্মী বুধবার রাতেই তার ফেসবুক আইডিতে দুটি স্ট্যাটাস দেন, যেখানে বিড়ম্বনার নানা তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এরপর থেকেই এ নিয়ে রীতিমতো চলছে তোলপাড় । ইতিমধ্যেই ফেসবুক ব্যাবহারকারীদের মধ্যে জেএফসির বিরুদ্ধে লাইক কমেন্টস ও শেয়ারের মাধ্যমে এমন বাজে ঘটনার তিব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন ও বিচারের দ্বাবী জানিয়ে আসছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভুগী সংবাদ কর্মী জানান, বুধবার সন্ধার কিছু পরে দিকে আমার স্ত্রি ও মেয়েকে নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের জামে মসজিদ এর সামনে অবস্থিত জেএফসি রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলাম। ভিতরে প্রবেশ করে একটি টেবিলে আমরা বসার কিছু সময় পরে আমার স্ত্রীর ওয়াশরুমে যাবার প্রয়োজন হলে আমি আমার ৮বছরের মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে জেএফসির ২য় তলায় অবস্থিত ওয়াশরুমে (টয়লেট) নিয়ে যাবার জন্য সিড়িতে উঠতেই জেএফসির ম্যানেজার পিছন থেকে আমাকে বললো ওয়াশরুমে কে যাবে ?

আমি তার প্রশ্নের উত্তর দিলে সে আমাকে বললো উনি একা যাবে আপনি যেতে পারবেন না । এমন অবাক করা কথা শোনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত না রাখায় আবার জিজ্ঞেস করলাম উনি একা যাবেন কেনো ? পরে একই ভাবে একই উত্তর দিয়ে বললো গেলে একা যেতে হবে না হলে এক সাথে যাওয়া যাবে না।

আমি এমন একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও সৌজন্যতা বজায় রেখেই তাদের কাছে এমন নিয়মের ব্যাক্ষা চেয়ে বললাম উনি আামার স্ত্রি আর এটা আমার মেয়ে আমি কেনো তাদের কে ওয়াশরুম পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারব না আর উপরেতো কেউ নাই ও একা একা কেনো উপরে যাবে ? আর যেহেতু উপরের ওয়াশরুমটা জেএফসির একমাত্র ওয়াশরুম (টয়লেট) কাজেই হঠাৎ অন্য কেউতো ওয়াশরুমে চলে যেতে পারে ! কেনো আমার স্ত্রিকে একা পাঠাবো ?

ঘটনাটি যখন ঘটে চলেছে অর্থাৎ জেএফসির ভিতরে থাকা সকল কাষ্টমারদের সামনেই জেএফসির কর্মচারিদের কাছে যখন এমন নিয়মের যৌক্তিক কারন জানতে চাচ্ছি তখনো তারা কোনো যৌক্তিক উত্তর না দিয়ে সকলের সামনে খুব বাজে ভাবে আমার সাথে তর্ক করতে থাকে । এক পর্যায়ে এমন পরিস্থিতির একজন ভুক্তভুগী হয়ে তাদের কে বলি আপনাদের আচরনে আমার মনে হচ্ছে অবশ্যয় আপনাদের এখানে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যেটা অসৌজন্যতামুলক না হলে কেনো একজন স্বামী তার স্ত্রিকে নিরাপত্তার সার্থে সাথে নিয়ে ওয়াশরুম পর্যন্ত যেতে পারবে না ?

আমার এমন প্রশ্নের উত্তরের কোনো যৌক্তিক উত্তর না দিয়ে বরং এক পর্যায়ে তারা আমাকে বললো আপনাকে আমরা কোনো ব্যক্ষা দিতে পারবো না আমাদের মালিকের নিষেধ আছে গেলে যাবেন না গেলে যাবেন না ।

আমার প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় তখন আমি তাদের ম্যনেজমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুললে এবং মালিককে বিষয়টি জানানোর জন্য মালিকের ফোন নাম্বার চাইলে ক্যাশ কাউন্টারে বসে থাকা একজন চেয়ার থেকে উঠে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দিকে ছুটে আসে এবং ম্যানেজারকে বলে টেবিলের নিচে ইশারা দিয়ে বলে ওইটা বের কর ! ( তবে কি লোকানো টেবিলের নিচে এটা এখনো বুঝিনি) এমন কথা বলে আমাকে আমার স্ত্রি,মেয়ে ও জেএফসির ভিতরে অবস্থানরত সকল কাষ্টমারের সামনে অপমান করে বলে আমি একজন কাষ্টমার হিসাবে মনে করি।

পরিস্থিতি বিবেচনা এবং তাদের আচরনের সীমালঙ্ঘন দেখে তখন জোরালো ভাবে পাল্টা প্রতিবাদ করলে তখন তারা বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে ভেবে মালিককে দিয়ে আমাকে ফোন করায়!
অবশ্য জেএফসির মালিকের আমার সাথে মোবাইলে কথা বলাটার মধ্যে যথেষ্ঠ সৌজন্যতা লক্ষ করেছি। ঘটনাটার সকল প্রমান জেএফসির ভিতরে থাকা সিসি ক্যামেরায় ধারন করা ফুটেজেই প্রমান করবে ।

আর এমন ঘটনায় প্রশ্ন থেকেই যায় আসলে কি হয় জেএফসির ২য় তলা ও টয়লেটে ?
এ বিষয়ে জেএফসির মালিক পক্ষ জনাব হাসিব এর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক এমন ঘটনা যেনো আর না ঘটে আমরা কেয়াল রাখবো ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here