জাতি রাঘব বোয়ালদের ন্যায় বিচারের অনিন্দনীয় অনুমাপক হিসেবে দেখতে চাই!

0
8

মোঃ সবুর মিয়া


স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সকলের ন্যায় বিচার পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার,সকল মানুষের ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উপর অর্পিত মহান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে গণতান্ত্রিক ধারার সরকার সব সময় আন্তরিক থাকে,তবে অনেক ক্ষেএে রাঘব বোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বহু আলোচিত ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত ঘটনা হলো বরগুনার রিফাত হত্যাকান্ড। সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকার কারণে শুধু বাংলাদেশে নয় সারা পৃথিবীতে বরগুনা রিফাত হত্যাকান্ড আলোড়ন ফেলেছে। গত ২৬ শে জুন ২০১৯ বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সকাল দশটায় ঘটেছিল নারকীয়, কলঙ্কিত ঘটনা একদল চিহ্নিত দাগি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নির্মমভাবে কুপিয়ে ছিল রিফাত নামের স্থানীয় এক ডিশ ব্যবসায়ীকে,ঘটনার দিন রিফাত তার স্ত্রীকে মোটরসাইকেল যোগে কলেজ থেকে বাড়িতে আনার জন্য গিয়েছিল। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কলেজ গেটের পাশেই তাকে নির্মম ভাবে আক্রমণ করেছিল। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি সাধ্যমত চেষ্টা করেছিল হত্যাকারীদের নিবৃত্ত করতে যা সাথে সাথেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ দেখেছে, মানুষ প্রথমে মনে করেছেন হয়তো ঢালিউড সিনেমার শুটিং কিন্তু বাস্তবটা ছিল সত্যিই বর্বর।

হামলার মূল আসামি পরিকল্পনায় ছিল নয়ন বন্ড, ফরাজী ভাইদয় ও এলাকার  চিহ্নিতসন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ীসহ, বিভিন্ন সামাজিক অপকর্মে জড়িত একদল যুবক। নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ১২ জন আসামির নাম উল্লেখ করে এবং আরও পাঁচ থেকে ছয় জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।ঘটনাটি সারা দেশব্যাপী আলোচিত হয়,কালক্রমে ২ জুলাই মঙ্গলবার ভোররাত সোয়া চারটার দিকে বরগুনা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের পূর্ব বুড়িরচর গ্রামে কথিত ক্রসফায়ারে নয়ন বন্ড নিহত হয়। অন্য সকল আসামিদের অনেকেই গ্রেফতার করতে পুলিশ সক্ষম হয়।

কিন্তু মজার ব্যাপার ঘটনার কয়েকদিন পরে রিফাত হত্যাকাণ্ডের আর একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পায় সেখানে দেখা যাচ্ছে রিফাত হত্যাকাণ্ডের সময় রিফাতের স্ত্রী ও হত্যাকাণ্ডের প্রধান সাক্ষী মিন্নি তার ব্যাগ গোছাচ্ছে ,স্যান্ডেল খুঁজছে, হত্যাকারীরা যখন রিফাত কে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছিল মিন্নিও ঘটনার সাথে জড়িত। রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ ছেলের স্ত্রী মিন্নিকে অভিযুক্ত করে সাংবাদিক সম্মেলন করে ও আসামী করে থানায় মামলা করে । রিফাত হত্যাকাণ্ডের প্রধান সাক্ষী হয়ে গেল প্রধান আসামি। প্রেক্ষাপট  পাল্টাতে লাগল, মিন্নিকে কে গ্রেপ্তার করা হলো রিমান্ডে নেয়া হলো বরগুনাতে কোন আইনজীবী মিন্নির পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য পাওয়া গেল না। সারা দেশব্যাপী আবার তোলপাড় শুরু হলো,অনেকেই মিন্নিকেই দোষারোপ করল, কেউ বলল এর মধ্যে রাঘব বোয়ালদের বিশেষ আকর্ষণ আছে, রাঘব বোয়ালদের বলতে বোঝানো হয়েছে, স্থানীয় এমপিও তার পুত্র,এছাড়াও স্থানীয় প্রভাবশালীদের।

নয়ন বন্ড ও ফরাজী সহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা এলাকায় বিভিন্ন রকম অপকর্ম সংঘটিত করে আসছিল।তাদেরকে এলাকার মানুষ খুব ভালোভাবে চিনে,বরগুনা এলাকায় যত রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক, ছিনতাই, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি সহ সকল অপকর্ম সাথে এই গ্রুপটি সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং এই গ্রুপটিকে ভরণপোষণ মদদ দিয়ে থাকে স্থানীয় এমপি ও তার পুত্র সঙ্গে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা যাদের ছত্রছায়ায় নয়ন বন্ড বাহিনী এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত।

একটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলো মানুষ ভিডিও চিত্র দেখল এই গ্রুপটিকে সব মানুষ চিনে, কারা মদদদাতা তাদেরকে পুলিশ কিছুই করছে না কিন্তু অপরপক্ষে যে বা যারা ভুক্তভোগী তারাই হচ্ছে হত্যার আসামি গ্রেফতারের শিকার ‌।তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই মিন্নি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত তাই বলে কি অন্য অপরাধীরা ছাড় পাবে বা নিরপরাধ হয়ে যাবে। স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিরা মিন্নি ও তার পরিবারকে এমনভাবে উপস্থাপন ও হেনস্তা করছে, মনে হচ্ছে তারা নয়ন বন্ড ও অন্যান্য সন্ত্রাসীদের বিষয়ে কিছুই জানে না।
অপরদিকে রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে প্রভাবশালী মহল, তাকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করাচ্ছে মিন্নি ও তার পরিবারকে দোষী সাব্যস্ত করছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছে কিন্তু এই ঘটনার অন্তরালে কারা জড়িত তা নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই সব কিছুতেই অপরাধী মিন্নি ।
সম্প্রতি হাইকোর্ট বলেছে মূল আসামিদের বাদ দিয়ে মিন্নিকে নিয়ে কেন এত টানা হেচরা করা হচ্ছে, তারপরও স্থানীয় প্রভাবশালী রাঘব বোয়লদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না!

স্থানীয়ভাবে ক্ষমতাসীনরা বা প্রভাবশালীরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন এদেশের সরকার বা প্রশাসনের চেয়ে বেশী ক্ষমতাবান নয়। ক্রসফায়ারে নিহত নয়ন বন্ডের মা বলছে নয়ন ও তাদের সঙ্গী সাথীদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে তাদের ব্যাপারে বিচার কি? অন্যদিকে মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ন্যায় বিচারের জন্য শুভ সংকেত নয়! রিফাত হত্যাকাণ্ড সঠিক বিচারের মাধ্যমে এদেশের মাটিতে ন্যায় বিচার সু প্রতিষ্ঠিত হোক মানুষ উপলব্ধি করুক অন্যায় কারী যত বড় শক্তিশালীই হোক না কেন আইনের হাত থেকে কখনোই রক্ষা পাবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here