গাবতলী হাটে ট্রাকে ট্রাকে পশু আসছে

0
9

আমার নিউজ ডেক্স: গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়ায় ভরে উঠছে এই হাট। আসছে উট, দুম্বাও। পর্যাপ্ত সরবরাহ হওয়ায় এবার কোরবানির পশুর দাম সহনীয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে এ হাটে এখনও পশু বিক্রি শুরু না হলেও উৎসুক মানুষের উপস্থিতি অনেক। অনেকে ঘুরে ঘুরে পশু দেখছেন এবং দাম যাচাই-বাছাই করছেন। তবে আজ থেকে বিক্রি শুরু হবে বলে হাট সংশ্লিষ্টা জানিয়েছেন।

ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, এবার হাটে পর্যাপ্ত গরু উঠবে। এর দুটি কারণ- প্রথমত. দেশে প্রচুর গরু উৎপাদন হয়েছে। দ্বিতীয়ত. দেশের বিশাল এলাকায় এবার বন্যা হয়েছে। তাই ওইসব এলাকার মানুষ খাদ্য ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে গরু বিক্রি করে দিচ্ছে। হাটে প্রচুর গরু উঠলে ক্রেতারা সহনীয় দামে পশু কিনতে পারবেন।

হাট ঘুরে দেখা যায়, ৬০ ভাগ জায়গা পূর্ণ হয়েছে হরেক রকম পশুতে। আর ৪০ ভাগ আজ এবং আগামীকাল পূর্ণ হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। হাটে দেশি গরুরই আধিক্য বেশি লক্ষ করা গেছে।

স্বল্প পরিমাণ ভারতীয় গরুও দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন দেশে প্রচুর গরু উৎপাদন হচ্ছে। চাইলে প্রতিবছর ১ থেকে ২ লাখ গরু রফতানি করাও সম্ভব। তাই ভারত বা মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি করার কোনো মানেই হয় না।

বেলা ১১টায় হাটে ঢুকতেই এক জায়গায় মানুষের জটলা চোখে পড়ে। কাছে গিয়ে দেখা যায়, কালো রঙের বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড় দেখছে উৎসুক মানুষ।

ঝিনাইদহের সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রাম থেকে আবদুল্লাহ এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম এনেছে এই ষাঁড়। বিশাল আকৃতির এ ষাঁড়ের নাম দিয়েছে ‘যুবরাজ’। কাছাকাছি আকৃতির আরও একটি ষাঁড় এনেছে এই প্রতিষ্ঠান। যুবরাজের দাম ৫৫ লাখ টাকা হাঁকানো হয়েছে। আর দুটি একত্রে ৮০ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে।

যুবরাজকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বেশি। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী বা আশপাশের এলাকার মানুষকে সারাক্ষণ ওই গরুর চারদিকে ভিড় করতে দেখা গেছে। আবদুল্লাহ এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের কর্মকর্তা মো. শাহ আলম জানান, এখনও হাট জমে উঠেনি। বিক্রি শুরু হলে দাম বোঝা যাবে। তখন বাজারমূল্য অনুযায়ী যে দাম উঠবে, সে দামেই পশু বিক্রি করবেন তিনি।

হাটে ঢোকার মুখে বামদিকে বিশাল আকৃতির আরও বেশ কয়েকটি ষাঁড় রয়েছে। এদের একটির নাম ‘বিগ বস’। সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে এই ষাঁড় নিয়ে এসেছেন মো. শাহেদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘২৫ লাখ টাকা দাম চাচ্ছি। ১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। হাট জমে উঠুক, এরপর বিক্রির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

মুন্সীগঞ্জের আল বাকারা ডেইরি ফার্ম থেকে একটি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন মো. নুরুল হক (শাহিন)। এ ষাঁড়টির নাম দেয় হয়েছে ‘মুন্সীগঞ্জের রাজা’। দাম হাঁকা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা।

হাটের মাঝামাঝি জায়গায় একটি খাটালে পাঁচটি গরু উঠিয়েছেন টাঙ্গাইলের আবুল কাশেম। এর মধ্যে একটি গরুর দাম তিনি ১০ লাখ টাকা হাঁকিয়েছেন। বাকিগুলো ৫ লাখ, ৩ লাখ এবং দুই লাখ টাকা চাচ্ছেন। এ ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখনও বিক্রি শুরু হয়নি। দাম বোঝা যাচ্ছে না। বিক্রি শুরু হলে বোঝা যাবে কত দাম পাব।’

গরুর দাম : এই হাটে বিভিন্ন দামের গরু উঠছে। ৫০ হাজর থেকে শুরু করে ৫৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের গুরু পাওয়া যাবে এবার। তবে এক লাখ, দেড় লাখ, দুই লাখ, তিন লাখ, চার লাখ এবং পাঁচ লাখ টাকার গরুর সংখ্যা বেশি।

গাবতলী হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘হাটে ট্রাকে ট্রাকে পশু আসছে। এখনও বিক্রি শুরু হয়নি। আগামীকাল (আজ) থেকে বিক্রি শুরু হবে বলে আশা করছি।’ তি

নি বলেন, ‘দেশে এখন প্রচুর গরু চাষ হচ্ছে। এ কারণে দেশি গরুতে হাট ভরে যাচ্ছে।

এবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হয়েছে। ওইসব এলাকার পশুগুলো আসতে শুরু করেছে। এ কারণে হাটে পশুর সংখ্যা বেশি। আর পশুর সংখ্যা বেশি হলে দামও সহনীয় থাকবে।

মহিষ : ৬০ হাজার থেকে শুরু করে ৭-৮ লাখ টাকা দামের মহিষ রয়েছে গাবতলী হাটে। তবে ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে মহিষের সংখ্যা বেশি। মহিষগুলো স্থায়ী খাটালে রাখা হয়েছে। সারা বছরই এখানে মহিষ পাওয়া যায়। কোরবানি উপলক্ষে মহিষের সংখ্যা কিছুটা বাড়ে।

খাসি : হাটে ৮ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা দামের খাসির সংখ্যা বেশি। তবে ৩০, ৩৫ এবং ৪০ হাজার টাকা দামের খাসিও রায়েছে। ঈদের আগের দু-তিনদিন আরও বেশি দামের খাসি হাটে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

উট : গাবতলী হাটে ঈদ উপলক্ষে উট এসেছে ৩টি। এ তিনটি উটের দাম হাঁকানো হয়েছে ১৪ লাখ, ১৬ লাখ এবং ১৭ লাখ টাকা। উটের মালিক মো. আজাদ রহমান বলেন, উটগুলো ভারত থেকে আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে দামাদামি হয়েছে। প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় উটগুলো বিক্রি করা হয়নি।

দুম্বা : গাবতলী গবাদিপশুর হাটে বেশকিছু দুম্বাও উঠেছে। কোনো কোনোটির দাম হাঁকানো হয়েছে ২ লাখ, ৩ লাখ, ৪ লাখ এবং সাড়ে ৫ লাখ টাকা। আমদানিকারকের দাবি, ইতিমধ্যে পাঁচ লাখ টাকায় একটি দুম্বা বিক্রি করেছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here