গরিবের হক, গরিবের দাড় গোড়াই পৌছে দিব, এটাই আমাদের অঙ্গিকার

0
83
ঝিনাইদহের হরিধনাী ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায় প্রকল্পের কাজ
ঝিনাইদহের হরিধনাী ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায় প্রকল্পের কাজ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় গত ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২২ থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার ২০২১- ২০২২ অর্থ বছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায় প্রকল্পের কাজ ৩০ মার্চ সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে ৪নং হলিধানী ইউনিয়ন পরিষদে বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফেসবুক ও অনলাইন গণমাধ্যমে লেবাদের মোবাইল সিমকার্ড লেবাদের কাছে না দিয়ে মেম্বার ও চেয়াম্যান কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ পায়। অভিযোগ করা হয় লেবারদের মোবাইল ব্যাকিং নগদে সরকারের দেওয়া টাকা চেয়ারম্যান, মেম্বাররা আত্মসাৎ করেছে। অন্যদিকে টিসিবির মালামাল নিয়েও বিভিন্ন ফেসবুকে বর্তমান পরিষদের বিরুদ্ধে অসত্য তুলে ধরা হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া তথ্যমতে, এ্যাডভোকেট এনামুল হক নিলু ৪নং হলিধানী ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম চেয়াম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৯৯২ সালে। এপর দ্বীতিয় বার আবারো বিপুল ভোটে ১৯৯৭ সালে পরিষদের চেয়াম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে ৩ মার্চ ২০০৩ সাল পর্যন্ত নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সাথে জনগণের সেবা করেন। তিনি চেয়াম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে, ঝিনাইদহ জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়াম্যান হিসেবে ১৯৯৫ সালে স্বর্ণ পদক পান। তার সফলার পিছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন প্যানেল চেয়ারম্যান সাদ আহমেদ বিশ^াস। তিনিও ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনবার নির্বাচিত হন নাটাবাড়ীয়া ও কাশীপুর ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে। সেই সময়ে তাদের পরিষদের পরিচালনায় সাধারণ মানুষ কোন হয়রানি ছাড়াই স্বস্তিতে বসবাস করেছেন। দির্ঘদিন পর আবারো ২৬শে ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনে এ্যাডঃ এনামুল হক নিলু বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন। তার সাথে সাদ আহমেদও ইউপি সদস্য হিসিবে বিজয় লাভ করেন। এরপর ৩ ফেব্রæয়ারী শপথের মাধ্যমে পরিষদের সকল দায়িত্ব বুঝে নেই চেয়ারম্যান নিলু। সেই সাথে ইউপি সদস্য হিসেবে সর্বচ্চো ভোট পাওয়ায় সাদ আহমেদ-কে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ঝিনাইদহের হরিধনাী ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায় প্রকল্পের কাজ
ঝিনাইদহের হরিধনাী ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায় প্রকল্পের কাজ

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যেমতে, উপজেলার ৪নং হলিধানী ইউনিয়নে ৪টি প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কাজগুলোর মধ্যে ১) বেড়াদী আমিরুলের বাড়ীর নিকট হইতে কালিতলা পর্যন্ত মাটি দিয়ে পুনঃনির্মান কাজে ২০ উপকারভোগী ২) গাড়ামারা তহিদুলের বাড়ী হইতে দাউদের আমবাগান পর্যন্ত এবং গাড়ামারা মসজিদ হতে মাঠ অভিমুখে রাস্তায় মাটি ভরাট ৪০ জন উপকারভোগী, ৩) কোলা বকুলের বাড়ী হইতে রশিদের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় মাটি দিয়ে পুনঃনির্মান কাজে ২০ জন উপকারভোগী, ৪) রামচন্দ্রপুর জোয়াদ আলীর বাড়ী হইতে মোশারেফের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় মাটি দিয়ে পুনঃনির্মান ২০ জন উপকারভোগী দ্বারা কাজ করানো হয়েছে। তাদের প্রত্যেকে প্রতিদিন মজুরি হিসেবে ৪০০ টাকা করে পাবেন। ইতিমধ্যে উপকারভোগীর মোবাইল নগদ-এর মধ্যমে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। ৪০ দিনের কর্মসূচির প্রথম কিস্তির টাকা উপকারভোগীর মোবাইল নাম্বারে ঢুকেছে।

সরোজমীনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের যে ৪টি রাস্তার কথা বলা হয়েছে। সেই মাটির কাঁচা রাস্তাগুলো ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। গ্রামের মাটির রাস্তা গুলো কাজ ভালো ভাবেই সম্পন্ন করা হয়েছে। রাস্তার পাশের জমি থেকে মাটি দিয়ে কাঁচা রাস্তাগুলো উচুনিচু সমান করে সংস্কার করা হয়েছে। মাঝে মাঝে তিব্ররোদে নতুন মাটি গুলো শুকায়ে ধুলাই পরিণত হয়েছে। অভিযোগের চারটি রাস্তাতেই উপকারভোগী দিয়ে কাজ করানো হয়েছে বলে জানান গ্রামের সাধারণ জগগণ।

ঝিনাইদহের হরিধনাী ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায় প্রকল্পের কাজ
ঝিনাইদহের হরিধনাী ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায় প্রকল্পের কাজ

৬নং বেড়াদী ওয়ার্ডের প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ইউপি সদস্য শ্রী সন্তোশ কুমার জানান, তার ওয়ার্ডে ৪০ দিনের প্রকল্পের কাজে ২০জন উপকারভোগীদের মধ্যে কয়েকজন মহিলাও আছে। তারা ৪০ দিনের কাজ সম্পন্ন করেছে। উপকারভোগীদের মুজরীর টাকা তাদের মোবাইল ব্যাংকিং নগদ-এর মাধ্যমে দুই সপ্তহের মুজরীর টাকা পেয়েছেন। তাদের মোবাইল সিম তাদের কাছেই থাকে। টাকা তুলার সময় শুধু রাতাই ওই টাকা তুলতে পারে এখানে মেম্বার বা চেয়াম্যানদের কোন হাত নেই।

মহিলা ইউপি সদস্য লিলি খাতুন জানান, তার নির্বাচিত দুইটি ওয়ার্ডে ৪০ দিনের প্রকল্পের কাজ হয়েছে। তিনি নিয়মিত কাজগুলো পরিদর্শন করেছেন। যে লেবার দিয়ে কাজ করানোর কথা সেই সকল লেবার দিয়েই কাজ করানো হয়েছে। লেবারদের টাকা দুই সপ্তহ পর পর দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু প্রায় তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তাদের টাকা তাদের মোবাইলে না ঢুকায় তারা বিড়াম্বনার শিকার হয়েছে। পরবর্তীতে মোবাইল নগদের মাধ্যমে একবারে দুই সপ্তহের টাকা পেয়ে গেছে। এখন আর কোন সমস্য নেই। বাকি টাকাগুলো কয়েক সপ্তহের মধ্যেই পেয়ে যাবে। তবে সরকারের এ ধরনের কাজ যদি চলমান থাকে তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নের ধারাবাহিকাও অব্যহত থাকবে।

বেড়াদী গ্রামের পূর্ণিমা রানীসহ কয়েকজন উপকারভোগী জানান, পরিবারে অস্বচ্ছলতার কারনে ৪০ দিনের প্রকল্পের কাজ করেন। তাদের প্রতিদিন ৪শত টাকা দেওয়ার কথা। মোবাইল সিমে নগদের মাধ্যমে দুই সপ্তহের টাকা পেয়েছেন। এই কাজ করতে পেরে তারা সংসারের অভাব মিটাতে পারছেন।

ইউপি ও সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান সাদ আহমেদ বিশ^াস জানান, ইউনিয়নে ৪০দিনের ৪টি প্রকল্পের কাজ হয়েছে। প্রতিদিন প্রকল্পের কাজ দেখতে গেছেন। যে পরিমান লেবার দিয়ে কাজ করানোর কথা, মেম্বাররা সেই লেবার দিয়েই কাজ করেছে এবং কাজগুলো সাঠিক ভাবে মানসম্মত হয়েছে। লেবাদের টাকা সরাসরি তাদের নগদ মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে দিচ্ছে সরকার। এখানে মেম্বার বা চেয়ারম্যানের কোন হাত নেই তাদের টাকা উত্তলন করার। মোবাইল সিমকার্ড স্ব-স্ব লেবাদের কাছেই রয়েছে। লেবাদের সিমকার্ড পরিষদে রাখা বা চেয়ারম্যানের কাছে রাখার কোন সুযোগ নেই। তবে ইতিমধ্যে কিছু লেবারদের সিমে এখনো প্রথম কিস্তির টাকা ঢুকেনি। তারা পরিষদে আসছে বিষয়টি জানার জন্য। তাদের সিমে আসলেই টাকা এসেছে কিনা তা যাচাই করে তাদের সিম তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের নগদ একাউন্ট নাম্বারগুলো উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। খুব শিঘ্রই তাদের টাকাগুলো তাদের একাইন্টে চলে আসবে। তিনি আরো জানান, একটি দালাল চক্র সরকারের বদনাম করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে অপপ্রাচার চালাচ্ছে। নির্বাচনের আগে আমরা জনগনের কাছে প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলাম গরিবের হক গরিবের দাড় গোড়াই পৌছে দিব। ইউনিয়নটিকে দালল মুক্ত করবো। আমরা সেই প্রতিশ্রæতি অনুযায়ি কাজ করে যাচ্ছি।

৪নং হলিধানী ইউনিয়ন চেয়াম্যান এ্যাডঃ এনামুল হক নিলু বলেন, চেয়াম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর প্রকল্পের কাজ এসেছে। প্রকল্প আসার পর মেম্বরদের ডেকে মিটিং-এর মাধ্যমে তাদের চারজন মেম্বরদের কাজগুলো বুঝিয়ে দিয়েছি। মেম্বদের দায়িত্বে কাজগুলো ইতিমধ্যে শেষও হয়েছে। এই কাজের সকল দায়দায়িত্ব মেম্বারদের। তবে আমার ইউনিয়নের কোন উপকারভোগী বলতে পরবে না চেয়ারম্যানের কাছে কোন সিমকার্ড দিয়েছে বা তাদের মুজরীর টাকা ইউনিয়ন পরিষদ গ্রহণ করেছে। আর যারা বিভিন্ন মিডিয়া কর্মীদের কাছে পরিষদের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের কাজই সরকারের সকল উন্নয়নের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করা। আমার পরিষদের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা। সমাজে আমাকে হেয় করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, ২০২১-২২ অর্থ বছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী সদর উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নে ১ম পর্যায়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজটি শুরু করা হয় ১২ ফেব্রæয়ারী। এবার জেটিপি পদ্ধতিতে লেবারদের কাজের টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। স্ব-স্ব লেবাদের মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের মোবাইলে টাকাগুলো অধিদপ্তর থেকে দিচ্ছে। লেবাররা টাকা পেয়েছে কি না শুধু এমন একটা তথ্য তাদের দেওয়া হয়।
আরো জানান, ৪নং হলিধানী ইউনিয়নে ১২ ফেব্রæয়ারী প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ৩০ মার্চে। সেখানে আমরা সরোজমিনে গিয়েছি। যে লেবার দিয়ে কাজ করানোর কথা সবাইকে কাজের সাডেই পেয়েছি। চেয়ারম্যান লেবাদের থেকে সিমকার্ড নিয়েছে এ কোন প্রমান আমরা পায়নি। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যা প্রচার করা হচ্ছে, তথ্যগুলো সঠিক নয়।

স্টাফ রিপোর্টার:/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here