কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে পশুহাট গুলো জমে উঠেছে : হাটগুলোতে চাঁদবাজি রোধে পুলিশ সুপারের কঠোর হুশিয়ারি

0
11

গিয়াস উদ্দীন সেতুঃ
ঝিনাইদহে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে জেলার পশুহাট গুলো জমে উঠেছে। জেলার ৬টি উপজেলায় এবছর ২৭ টি পশুহাটে গরু ছাগল বিক্রি হচ্ছে। এদিকে গরু বহনের গাড়িতে বা হাটগুলোতে চাঁদবাজি রোধে পুলিশ সুপার কঠোর হুশিয়ারি করেছেন।
খোঁজনিয়ে জানা গেছে, জেলার ৬টি উপজেলায় ২’হাজার ১১৫টি খামার রয়েছে। যেখানে গরুর ফার্ম ৬৪০টি, ছাগল ভোড়ার ফার্ম ৪৫০টি, লেয়ার মুরগি ৪১১৭টি। আর এসকল ফার্মে প্রায় ১০’হাজার বেকার যুবকদেও কর্মসংস্থান সৃষ্ঠি করেছে। গত মাস দেড়েক আগে থেকেই খামারিরা পালিত গরু, ছাগলের বিশেষ ভাবে যতœ নিতে শুরু করেন। পালিত পশুটি বাজারের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি করতে ব্যস্ততার কমতি ছিলনা খামারীদের। নিজেদের উৎপাদিত সবুজ ঘাস, বিচালীসহ চিটাগুড় ও নানা ধরনের দানাদার খাবারে মোটাতাজা করেছেন। এছাড়া মুগরির খামারিরা লাভের আশায় বিশেষ ভাবে যতœ নিয়ে চলেছেন।

তবে জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, এ বছর জেলার ৬ উপজেলায় রেজিস্ট্রেশন খামারির সংখ্যা ২’শ ৩৭ টি। এখানে দেশীয়, পাবনাই ষাড়, নেপালী ষাড়, সিন্ধিসহ বিভিন্ন জাতের ৫৫ হাজার ৮ শ’ ৯৬ টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা পরিতোস চক্রবর্তী জানান, চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কোরবানি ঈদের কিছুদিন আগ থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক। গোয়াল ঘর খোলামেলা ও প্রচুর আলো-বাতাসের সুযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা, সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাহলে গরু বৃদ্ধি পাবে এবং গরুর কোন রোগ হবেনা।
জেলার হরিনাকুন্ড উপজেলার ফলসি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া নামক গ্রাম থেকেই এবছর প্রায় দেড় হাজার গরু বিক্রয় হবে। গ্রামের গরু মোটাতাজা করতে কোন ইনজেকশন ব্যবহার করেন না। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করেন। এখানে আলাদা কোন খামার নেই। প্রত্যেকে সাধারন মানুষ গরু পালন করেছে। কুলবাড়ীয়ার গরু ঢাকা, সিলেট কুমিল্লা, চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় এবং নিজ উপজেলারও চাহিদা মেটাবে। তবে দেশের বাইরে থেকে গরু না আসলে এবার লাভের মুখ দেখবেন বলে জানালেন তিনি।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়ন পরিষদের নিকট নতুন ভাবে এবছর প্রতি শনিবার পশু হাট বসেছে। ঈদকে সামনে রেখে হাটের ক্রেতা-–বিক্রেত্ াউভয় যেন নিরাপদে কেনাকাটা করতে পারেন, সেজন্য নিজের উদ্যোগে বাড়তি নিরাপদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ক্রেতা বিক্রেত্ াউভয়ই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও জানান, নতুন হাট হিসাবে আমরা যতেষ্ঠ সাড়া পাচ্ছি। হাটটি এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্ঠি করেছে। তেমনি হাটটি ইজারাভুক্ত করতে পারলে সরকারও ব্যাপক রাজস্ব আয় করবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান, রোববার (৪আগস্ট) জেলার ২৭ পশু হাটের ইজারাদারদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। সভায় গরুর গাড়ীতে ও হাটে চাঁদাবাজিরোধ, জাল নোট সনাক্তকরনে মেশিন বসানো, অতিরিক্ত টোল আদায় না করা, এক হাটের পশু অন্য হাটে নেওয়া, হাটের ও ইজারাদের নিরাপত্তাসহ কঠোর হুশিয়ারি দেন। তিনি কোথাও কোন চাঁদাবাজি হলে বা চেষ্ঠা করলে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবেনা বলে হুশিয়ারি করেন। পশুহাট গুলো হল- সদরে ৭টি, শৈলকুপায় ৮টি, হরিণাকুন্ডেু ৩টি, কালীগঞ্জে ৩টি, কোটচাঁদপুরে ২টি ও মহেশপুরে ৪টি পশুর হাট বসছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: হাফিজুর রহমান জানান, দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করনের ফলে ঢাকা, কুমিল্লা, চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ঝিনাইদহের গরুর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। ফলে জেলার চাহিদা পুরন করে অর্ধেকেরও বেশী গরু বাইরের জেলায় বিক্রির আশা করা যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here