এবার কুষ্টিয়ার গৃহবধুকে গাছে বেঁধে, মাথা নেড়া করার অভিযোগ

0
5

আমার নিউজ ডেক্স: এবার কুষ্টিয়ার গৃহবধুকে গাছে বেঁধে, মাথা নেড়া করার অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক গৃহবধূকে গাছে বেঁধে, মাথার চুল কেটে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ওই নারী চিকিৎসাধীন। চিকিৎসক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রকিউর রহমান জানান, নির্যাতনের শিকার নারীর সুস্থ হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। গত ২৪ মার্চ ওই গৃহবধূর শ্বশুর বাড়ির লোকজনের এই বর্বরতার ঘটনায় থানায় মামলা হলেও এখনও জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবসী। পুলিশ বলছে, দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। জানা গেছে, তালাকপ্রাপ্ত এই গৃহবধূ দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন বর্তমান স্বামীকে। তিনি জানেন না কি তার অপরাধ। বিনা অপরাধে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে আপত্তিকর অবস্থায় গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে নির্যাতন করে ওই গৃহবধূর বর্তমান শ্বশুর বাড়ির লোকজন। প্রকাশ্যে এমন বর্বর নির্যাতনের দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। নির্যাতনের ক্ষত আর মানসিক যন্ত্রণার বিবরণ দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন চিকিৎসাধীন গৃহবধূ। তিনি এই বর্বর নির্যাতনের কথা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ৭জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা করেছেন ভেড়ামারা থানায়। কিন্তু ঘটনার ৫দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষুব্ধ তিনিসহ এলাকাবাসী। ঘটনার দিনের প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ দিয়ে স্থানীয় প্রতিবেশী আলেজান নেছা (৫৫) বলেন, “বিকেল দিকে হঠাৎ শোরগোল শুনে বাইরে এসে দেখি, ময়নাকে তার স্বামী আসলামের ১ম স্ত্রী সাবিনাসহ ৫/৬জন মিলে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে আনছে, ময়নার মাথার চুল কেটে, গায়ের পোশাক খুলে সজিনা গাছের সঙ্গে ওড়না ও রশি দিয়ে বাঁধে। তরপর মারধর করে। নির্যাতিতার স্বামী আসলাম হোসেন বলেন, “মাত্র দেড় মাস আগে তালাকপ্রাপ্ত ময়নার সঙ্গে ২য় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাদের বিয়ে হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রথম স্ত্রী সাবিনা আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে আমাকেও মারধর করে এবং ময়নাকেও মারে। ঘটনার দিন নিজ বাড়িতে বসে ময়নার সাথে কথাবার্তা বলছিলাম। এ সময় হঠাৎ প্রথম স্ত্রী তার ভাসুরদের সঙ্গে করে বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রথমে আমাকে মারে পরে ঘরে ঢুকে ময়নার চুল কেটে, টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে এসে শরীরের জামা-কাপড় খুলে ফেলে এবং গাছের সঙ্গে বাঁধে। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি কুষ্টিয়ার সভাপতি অ্যাড. মঞ্জুরী বেগম বলেন, একজন গৃহবধূকে প্রকাশ্যে এমন মধ্যযুগীয় বর্বর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি করছি। সেই সঙ্গে নির্যাতিতার সবরকম আইনি সহায়তার কথা জানালেন তিনি। ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওাস) খন্দকার শামীম জানান, গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় ময়না খাতুন নিজেই বাদী হয়ে ৭জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রয়া চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here