উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ২ কোটি টাকা জাবি ভিসি ছাত্রলীগকে দিয়েছেন??

0
8

আমার নিউজ ডেক্স: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপে বরাদ্দ রাখা অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগকে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চলমান ক্যাম্পাস উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দেবে না, এই প্রতিশ্রুতিতে ছাত্রলীগের তিনটি গ্রুপকে এই টাকা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি নতুন আবাসিক হলের নির্মাণকাজের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাড়ে চারশ’ কোটি টাকা।

ঈদুল আজহার আগে ছাত্রলীগকে এ বরাদ্দ থেকেই দুই কোটি টাকা দেয়া হয় বলে অভিযোগ।

শাখা ছাত্রলীগের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, ‘এক কোটি টাকা করে ছাত্রলীগের তিনটি গ্রুপকে দেয়া দেয়া হয়েছে এ টাকা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে ১ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এ টাকার ভাগ তারাও পেয়েছেন।’

তারা আরও বলছেন,‘ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীরা ৫ থেকে ১ হাজার টাকা করে ভাগ পেয়েছেন। আর পদধারী নেতারা পেয়েছেন ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা করে।’

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেই নয় ক্যাম্পাসের সর্বত্র এখন আলোচিত বিষয় এই দুই কোটি টাকার কে কত করে ভাগ পেয়েছেন!

সে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা বিষয়ে গত ৯ আগস্ট ছাত্রলীগের সঙ্গে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বৈঠক হয়েছে বলে কথা শোনা যাচ্ছে।

বিপুল পরিমাণ এই টাকার ভাগ-বাটোয়ারা ঘটনাকে ধিক্কার জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার তারা এক মশাল মিছিল করে তিন দফা দাবি পেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

দাবি তিনটি হলো- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশের হলের জায়গা স্থানান্তর করে পুনর্বিন্যাস সাধন করতে হবে, প্রকল্প নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে, মাস্টারপ্লানের পুনর্বিন্যাস করে প্রকল্পের বাকি কাজগুলো শুরু করতে হবে।

এ তিন দাবি মানা না হলে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ভিসির কার্যালয় অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এদিকে টাকা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামসহ প্রকল্পের ঠিকাদাররা।

তবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার ব্যাপারে কথা বলতে সংগঠনটির সভাপতিসহ অন্যরা আমার কাছে এসেছিলেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তাদের টাকা প্রদানের বিষয়টি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ’

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘ছাত্রলীগের তিনটি গ্রুপের চার নেতাসহ ভিসির সঙ্গে বৈঠক করি আমরা। সে সময় ভিসির পরিবারের দুই সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে কে কত টাকা পাবে সে বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে দর কষাকষি হয়েছিল। সেখানে জাবি ছাত্রলীগের তিনটি গ্রুপকে দুই কোটি টাকা দেয়াসহ কাকে কত করে দেয়া হবে তা নির্ধারিত হয়।

ছাত্রলীগের তিনটি গ্রুপের মধ্যে একটির নেতৃত্বে রয়েছেন জাবি ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা, অপর গ্রুপের নেতৃত্বে সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল এবং তৃতীয় গ্রুপটির নেতৃত্বে রয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং সহ-সভাপতি নাঈমুল হাসান তাজ।

এ বিষয়ে জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, হ্যা ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে ভিসির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা টাকা নিয়েছি এমন অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা।’

জাবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ানসহ যুগ্ম সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং সহ-সভাপতি নাঈমুল হাসান তাজ এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহেল রানা বলেন, ‘ভাগ-বাটোয়ারা তো রীতিমতো চমকে যাওয়ার মতো বিষয়। শুনে অবাক হচ্ছি। একটা অশুভ চক্র তৈরি হয়ে যায় কি না সো শঙ্কায় আছি।’

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে হরিলুটের একটা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমরা কোনোভাবেই এটা প্রতিহত করতে পারছি না।’

টাকা ভাগাভাগির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নে’ ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

ইতিমধ্যে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি আবাসন প্রকল্প নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

নির্মাণ প্রকল্পের জন্য সবুজ ক্যাম্পাসটির প্রায় ১ হাজার ১৩২টি গাছ কেটে ফেলার জন্য চিহ্নিত করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here