আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ

0
35
আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ
আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাট গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়রন ফলিক এ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়ার পর রেবা খাতুন (১২) নামের এক ছাত্রীর মৃত্যু অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৮মার্চ) সাকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আয়রন ট্যাবলেট খেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ায় একই ক্লাসের আরো দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে।https://www.youtube.com/watch?v=WYL17oceDWk

মৃত রেবা খাতুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর সমশপুর গ্রামের সাগর হোসেনের মেয়ে এবং হাট গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী। এ ঘটনায় ফারজানা ও আসমা নামের আরো দুই শিক্ষার্থী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউসুফ আলি জানান, ছাত্রীটি অন্যান্য দিনের মত সোমবার সকাল ১০টার দিকে স্কুলে আসে। শনিবার দেশ ব্যাপী কৈশর কালীন পুষ্টি নিশিচত করতে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ করা আয়রন ফলিক এ্যসিড ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে হঠাৎ করে রেবা খাতুনসহ ৩ টি মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রেবাকে মৃত ঘোষণা করে। অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মৃত রেবার বাবা সাগর হোসেন বলেন, আমার মেয়ে সকালে বাড়ি থেকে ডিম আর মিষ্টিকুমড়ার তরকারি দিয়ে ভাত খেয়ে স্কুলে গেছে। আমার মেয়ের কোন রোগ নেই। কেন আমার মেয়ে মারা গেল তা তদন্ত করার দাবী করছি।

হাটগোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ কুমার বিশ^াস জানান, আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার পর ৩ টা মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি মেয়ে মারা গেছে। তাদের দাবী এই মৃত্যুর সঠিক কারণ যেন স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রæত বের করেন।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আশরাফুজ্জামান জানান, মেয়েটিকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তবে আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে নাকি, অন্য কোন কারন ছিল তা আরো পরীক্ষা নীরিক্ষা করে ময়না তদন্তের পরই জানা যাবে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা: শুভ্রা রাণী দেবনাথ বলেন, আয়রণ ট্যাবলেট থেকে মৃত্যুর কোন নজির নেই। এমনকি ঔষধ যদি মেয়াদউত্তীর্ণও হয় তবুও সব্বোর্চ পাতলা পায়খানা হতে পারে। তারপরও মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করার জন্য সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আনোয়ারুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রতিনিধি,ঝিনাইদহ-২৮ মার্চ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here